সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পিটুইটারি টিউমার হলো এমন টিউমার যা পিটুইটারি গ্রন্থিতে অস্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়। এই গ্রন্থিটি সাইজে একটি পাইয়ের মতো। এই গ্রন্থিটির অবস্থান মস্তিষ্কের তলদেশে নাকের পেছনে। টিউমারের কারণে এই পিটুইটারি গ্রন্থিগুলো নির্দিষ্ট কিছু হরমোনের অতিরিক্ত পরিমাণ তৈরি করে যা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে।
পিটুইটারি টিউমারের বেশিরভাগই বিনাইন বা মৃদু প্রকৃতির হয়। এর মানে হলো এগুলো ক্যানসারযুক্ত নয়। এই ক্যানসারহীন পিটুইটারি টিউমারগুলোর আরেকটি নাম হলো পিটুইটারি অ্যাডেনোমা। বেশিরভাগ অ্যাডেনোমা পিটুইটারি গ্রন্থিতে বা এর আশেপাশের টিস্যুতে থেকে যায়, এই টিউমারগুলো ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়েও পড়ে না।
ভারতে পিটুইটারি টিউমারের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা রয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা যেতে পারে। এর বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে, যদি এটি ধীরে এবং কম বৃদ্ধি পায় তবে ওষুধ বা বিকিরণ থেরাপির মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। কখনো কখনো ওষুধের মাধ্যমে হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
পিটুইটারি অ্যাডেনোমার প্রকারভেদ
পিটুইটারি অ্যাডেনোমার প্রকারভেদের মধ্যে রয়েছে:
- ফাংশনিং বা কার্যক্ষম: এই অ্যাডেনোমাগুলো বিভিন্ন হরমোন তৈরি করে। বিভিন্ন হরমোন বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ তৈরি করে যা তারা যে ধরনের হরমোন তৈরি করে তার ওপর নির্ভর করে। কার্যক্ষম পিটুইটারি অ্যাডেনোমাকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- অ্যাড্রেণোকর্টিকোট্রপিক হরমোন: এই হরমোনকে এসিটিএইচ (ACTH)-ও বলা হয়।
- গ্রোথ হরমোন বা বৃদ্ধির হরমোন: এই টিউমারগুলো সোমাটোট্রফ অ্যাডেনোমা নামেও পরিচিত।
- লুটিনাইজিং হরমোন এবং ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন: এই হরমোনগুলোকে গোনাডোট্রপিনও বলা হয়। যে টিউমারগুলো এই হরমোনগুলো তৈরি করে সেগুলোকে গোনাডোট্রফ অ্যাডেনোমা বলা হয়।
- প্রোল্যাকটিন: এই হরমোনগুলো প্রোল্যাকটিনোমা বা ল্যাকটোট্রফ অ্যাডেনোমা নামেও পরিচিত।
- থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন: এই টিউমারগুলো থাইরোট্রফ নামেও পরিচিত।
- নন-ফাংশনিং বা অকার্যকর: এই অ্যাডেনোমাগুলো কোনো হরমোন তৈরি করে না, এগুলো যে সম্পর্কিত লক্ষণগুলো তৈরি করে তা হলো পিটুইটারি গ্রন্থি, স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের চারপাশে তাদের বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট চাপ।
- ম্যাক্রোঅ্যাডেনোমা: এগুলো বড় আকারের অ্যাডেনোমা। এগুলো প্রায় ১ সেন্টিমিটার বা তার বেশি হয়ে থাকে। আধ ইঞ্চির চেয়ে সামান্য কম।
- মাইক্রোঅ্যাডেনোমা: এই অ্যাডেনোমাগুলোর আকার ছোট হয়। এগুলো প্রায় ১ সেন্টিমিটারের কম হয়।
টিউমারের চাপের কারণে সৃষ্ট লক্ষণ
ম্যাক্রোঅ্যাডেনোমাগুলো পিটুইটারি গ্রন্থিতে, স্নায়ুতে, মস্তিষ্কে এবং শরীরের অন্যান্য অংশে চাপ সৃষ্টি করে। চাপের কারণে সৃষ্ট কিছু লক্ষণের মধ্যে রয়েছে:
- মাথা ব্যথা
- চোখের পাতা ঝুলে পড়া
- খিঁচুনি
- বমি ভাব
- বমি হওয়া
- মুখের ভেতরে ব্যথা যার মধ্যে সাইনাস বা কানের ব্যথা অন্তর্ভুক্ত
- অপটিক নার্ভ বা দৃশ্য স্নায়ুতে চাপের অনুভূত হওয়ার কারণে চোখের সমস্যা, কখনো কখনো দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়া
হরমোনের পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট লক্ষণ
ম্যাক্রোঅ্যাডেনোমাগুলো হরমোন তৈরির পিটুইটারি গ্রন্থির ক্ষমতা কেড়ে নেয়। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ক্লান্তি বা দুর্বলতা
- মাসিক চক্রে পরিবর্তন
- যৌন সমস্যা যেমন ইরেকশন সংক্রান্ত সমস্যা বা সেক্সের প্রতি কম আগ্রহ
- বমি ভাব
- ঠান্ডা লাগা
- ওজন কমা বা বৃদ্ধি পাওয়া
পিটুইটারি টিউমারের জটিলতা
পিটুইটারি টিউমার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে না। এগুলো একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু জটিলতার মধ্যে রয়েছে:
- উচ্চ রক্তে শর্করা
- হাড় ক্ষয়
- উচ্চ রক্তচাপ
- দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো দৃষ্টি সংক্রান্ত সমস্যা
- হৃদরোগ
- স্মৃতির সমস্যা
ভারতে পিটুইটারি টিউমারের খরচ
ভারতে পিটুইটারি টিউমারের খরচ সাশ্রয়ী এবং উন্নত চিকিৎসা সুবিধা প্রদানে উৎসাহব্যঞ্জক। আন্তর্জাতিক রোগীদের অত্যন্ত আশাব্যঞ্জকভাবে সেবা প্রদানকারী শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম।
যাহোক, চিকিৎসার সামগ্রিক খরচ বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। এই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সার্জনদের দক্ষতা, ইমপ্লান্টের ধরণ, হাসপাতালের অবস্থান এবং আরও অনেক কিছু।
সারাংশ
পিটুইটারি টিউমার হলো এমন টিউমার যা পিটুইটারি গ্রন্থিতে অস্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়। এই গ্রন্থিটি সাইজে একটি পাইয়ের মতো। এই গ্রন্থিটির অবস্থান মস্তিষ্কের তলদেশে নাকের পেছনে।
ভারতে পিটুইটারি টিউমারের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা রয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা যেতে পারে।















