সংক্ষিপ্ত বিবরণ
গ্লিওমা (glioma) হলো এমন এক ধরনের টিউমার, যা মস্তিষ্কে এবং মেরুদণ্ডে গ্লিয়াল কোষগুলোর অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলে তৈরি হয়। এই কোষগুলো স্নায়ুকে সহায়তা করে এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সাহায্য করে। গ্লিওমা সাধারণত মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডে বৃদ্ধি পায়।
গ্লিওমাগুলো ক্যানসারযুক্ত এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এগুলো হলো প্রাথমিক মস্তিষ্কের টিউমার, কারণ এই কোষগুলোর উৎপত্তি মস্তিষ্কের টিস্যুতেই হয়। গ্লিওমা সাধারণত মস্তিষ্ক বা মেরুদণ্ডের বাইরে ছড়ায় না। এই গ্লিওমাগুলো জীবন হাচিকর হতে পারে কারণ এগুলো:
- অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা কঠিন
- মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে
গ্লিওমার বিভিন্ন প্রকার রয়েছে যার মধ্যে অ্যাস্ট্রোসাইটোমা, এপেডাইমোমা এবং অলিগোড্রোগ্লিওমা অন্তর্ভুক্ত। গ্লিওমা প্রধানত শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়কেই প্রভাবিত করে।
গ্লিওমার প্রকারভেদ
সাধারণত, গ্লিওমা প্রধানত তিন প্রকারের হয়ে থাকে। কিছু গ্লিওমাতে একাধিক ধরনের কোষ থাকে। এই একাধিক কোষকে মিশ্র গ্লিওমাও বলা হয়। গ্লিওমাগুলো কত দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে তার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে লো, মিড বা এক্সট্রিম হিসেবে উপবিভক্ত করা হয়।
অ্যাস্ট্রোসাইটোমা, এর মধ্যে গ্লিওব্লাস্টোমা এবং ডিফিউজ ইন্ট্রিনসিক পনটাইন গ্লিওমাস (DIPGs) অন্তর্ভুক্ত: এই টিউমারগুলো অ্যাস্ট্রোসাইট নামক কোষ থেকে শুরু হয়। গ্লিওব্লাস্টোমা হলো এমন এক ধরনের অ্যাস্ট্রোসাইটোমা যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যে সমস্ত ম্যালিগন্যান্ট ব্রেন টিউমার বিকশিত হয়, এগুলো তার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ। শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যাস্ট্রোসাইটোমা সাধারণ গ্লিওমা। শিশুদের মধ্যে এটি মস্তিষ্কের ক্যানসারের একটি অত্যন্ত বিরল রূপ। এটি সাধারণত শিশুদের প্রভাবিত করে এবং ব্রেন স্টেম-এ বিকশিত হয়।
এপেডাইমোমা: এই টিউমারগুলো মস্তিষ্কের কোষের একটি প্রকার, এপেডাইমোসাইট থেকে শুরু হয়। এগুলো সাধারণত মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকেলে বা মেরুদণ্ডে বিকশিত হয়। টিউমারটি ছড়িয়ে পড়ার কারণ হলো মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা তরল, তবে হ্যাঁ এগুলো শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে না। এটি একটি বিরল প্রকার যা সমস্ত ব্রেন টিউমারের প্রায় ২% ক্ষেত্রে পাওয়া যায় এবং এগুলো শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের মধ্যেই সাধারণ।
অলিগোড্রোগ্লিওমা: এই টিউমারগুলো অলিগোড্রোসাইট নামক মস্তিষ্কের কোষে বিকশিত হতে শুরু করে। এই কোষগুলো খুব ধীরে বৃদ্ধি পায় কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এগুলো মস্তিষ্ক বা মেরুদণ্ডের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে না।
গ্লিওমার ঝুঁকি
এখানে এমন কিছু কারণ দেওয়া হলো যা গ্লিওমা হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, তবে হ্যাঁ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে গ্লিওমা যে কারও হতে পারে।
বয়স: ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে গ্লিওমা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
জাতিগোষ্ঠী: অন্যান্য জাতির তুলনায় শ্বেতাঙ্গ মানুষদের গ্লিওমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
বংশগত জিনগত ব্যাধি: কারও পরিবারে গ্লিওমা হওয়ার ইতিহাস থাকলে, এটি ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
লিঙ্গ: নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে গ্লিওমা বেশি দেখা যায়।
বিকিরণ বা বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ: দীর্ঘক্ষণ বা বারবার বিকিরণ বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
গ্লিওমার লক্ষণ
গ্লিওমার কিছু সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে:
- কথা বলতে এবং যোগাযোগ করতে সমস্যা হওয়া
- ঝাপসা দৃষ্টি বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়া
- মাথা ঘোরানো
- মাথা ব্যথা
- হাঁটতে বা ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা হওয়া
- হেমিপেরেসিস (শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া)
- বমি ভাব এবং বমি হওয়া
- ব্যক্তিত্ব বা আচরণগত পরিবর্তন
- জ্ঞানীয় সমস্যা
- খিঁচুনি
গ্লিওমার জটিলতা
গ্লিওমার জীবন হাচিকর জটিলতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেন হেমারেজ)
- ব্রেন হার্নিশিয়েশন
- হাইড্রোসেফালাস
- খিঁচুনি
- মাথার খুলির ভেতরের চাপ
- খিঁচুনি
ভারতে গ্লিওমার খরচ
ভারতে গ্লিওমার খরচ সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত উচ্চমানেরও বটে। ভারতীয় হাসপাতালগুলো যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে তা অত্যন্ত উন্নত মানের। অন্যান্য দেশ থেকে আসা রোগীদের বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম। এছাড়া, ভারতকে চমৎকার যত্ন প্রদানকারী চিকিৎসাকেন্দ্রের কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে যোগাযোগ সহজ করার জন্য বহুভাষিক কর্মী এবং উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় নিউরোসার্জনরা তাদের রোগীদের সর্বোত্তম সেবা এবং অধিক নিখুঁত চিকিৎসা প্রদান করেন।
তবে, চিকিৎসার সামগ্রিক খরচ বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। এই কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সার্জনের দক্ষতা, ইমপ্লান্টের প্রকার, হাসপাতালের অবস্থান এবং আরও অনেক কিছু।
সারাংশ
গ্লিওমা হলো এমন একটি টিউমার যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডে গ্লিয়াল কোষগুলোর অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলে বিকশিত হয়। এই কোষগুলো স্নায়ুকে সহায়তা করে এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সাহায্য করে।
এগুলো প্রাথমিক মস্তিষ্কের টিউমার, কারণ এই কোষগুলোর উৎপত্তি মস্তিষ্কের টিস্যুতেই হয়।
গ্লিওমার বিভিন্ন প্রকার রয়েছে যার মধ্যে অ্যাস্ট্রোসাইটোমা, এপেডাইমোমা এবং অলিগোড্রোগ্লিওমা অন্তর্ভুক্ত।




