ওভারভিউ
অ্যাবোভ-নি অ্যামপুটেশন বা হাঁটুর ওপরের অংশ কেটে বাদ দেওয়া হলো এমন একটি সার্জিক্যাল পদ্ধতি যা হাঁটুর জয়েন্টের ওপর থেকে পা কেটে ফেলার জন্য করা হয়। এই সার্জারি প্রায়ই গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে করা হয়, যেমন পেরিফেরাল ভাসকুলার ডিজিজ, যা রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত জীবনঘাতী টিস্যুর ক্ষতি বা টিস্যুর মৃত্যু ঘটাতে পারে। এছাড়া, এই সার্জারি করার আরেকটি কারণ হলো পায়ে বা পায়ের পাতা সারিয়ে তোলা যায় না এমন আলসার, যা মূলত ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে দেখা যায় বা মারাত্মক দুর্ঘটনার ফলে হয়ে থাকে। অধিকন্তু, অন্যান্য চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর এই পদ্ধতিটিকে শেষ উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ রোগীর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। ফলস্বরূপ, এর জন্য প্রচুর মানসিক ভারসাম্য, আবেগীয় স্থিতিশীলতা এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজন হয়।
হাঁটুর ওপরের অংশ কেটে বাদ দেওয়ার (অ্যাবোভ-নি অ্যামপুটেশন) সার্জারির পূর্ববর্তী বিবেচনা
এগিয়ে যাওয়ার আগে একটি উপযুক্ত পরিকল্পনা প্রয়োজন। অ্যামপুটেশনের জন্য গভীর মনোযোগ এবং পরিকল্পনা প্রয়োজন। সেরা অর্থোপেডিক সার্জনগণ এই পদ্ধতির মাধ্যমে পথনির্দেশ করেন। সার্জারির আগে যে বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত, এখানে তার কিছু মূল পয়েন্ট দেওয়া হলো।
- পরামর্শ (কনসালটেশন): সার্জারির প্রয়োজনীয়তা, সার্জারির সাথে জড়িত জটিলতা ও ঝুঁকি এবং এর ফলাফল সম্পর্কে সার্জনের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত। কারণ এটি রোগীকে সন্তুষ্ট করতে সাহায্য করবে।
- সার্জারি-পূর্ব পরিকল্পনা (প্রি-অপারেটিভ প্ল্যানিং): সার্জারির সময়সূচী অনুযায়ী আপনাকে কী খাওয়া উচিত এবং কী খাওয়া উচিত নয় সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে। এছাড়া সার্জারির আগে যে ওষুধগুলো এড়িয়ে চলতে হবে সেগুলোর কথাও জানানো হবে।
- অ্যান্টিবায়োটিক: শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য রোগীকে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
- ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা: সার্জারি করানোর আগে কিছু ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। যেমন- এক্স-রে, ক্যাথেটার চেকিং, রক্ত পরীক্ষা, কনট্রাস্ট লিকুইড এবং আরও অনেক কিছু। ভালো ফলাফলের জন্য অ্যামপুটেশনের সঠিক স্থান নির্ধারণ করতে অক্সিজেনের মাত্রা সাহায্য করে।
- ফিজিক্যাল থেরাপি: পেশী শক্তিশালী করতে সাহায্য করার জন্য সার্জারির আগে ফিজিক্যাল থেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয়।
হাঁটুর ওপরের কৃত্রিম অঙ্গের (প্রোস্থেটিকস) প্রকারভেদ এবং সেগুলোর ব্যবহার
এখানে হাঁটুর ওপরের অ্যামপুটেশনের প্রকারভেদগুলো বর্ণনা করা হয়েছে যা সার্জনরা নির্ধারণ করে থাকেন। ভারতের সেরা অর্থোপেডিক সার্জনগণ নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করার পর রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামপুটেশনের ধরন নির্ধারণ করেন।
হাঁটুর ওপরের অ্যামপুটেশনের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে রয়েছে:
- সি-লেগ (C-leg), জিনিয়াম (Genium), এক্স৩ নিস (X3 knees), পাওয়ার/রিও নিস (Power/Rheo knees)
- আই-লিম্ব (i-limb)
- প্রপ্রিয়ো ফুট (Proprio Foot)
- আই-ডিজিটস কোয়ান্টাম (I-digits Quantum)
- বি-বায়োনিক হ্যান্ড (Be-bionic Hand)
অ্যামপুটেশনের সমস্ত প্রকারভেদ বিভিন্ন অবস্থার জন্য নির্ধারিত, যা ভারতের সেরা অর্থোপেডিক হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জনগণ নির্বাচন করবেন।
হাঁটুর ওপরের অংশ কেটে বাদ দেওয়ার (অ্যাবোভ-নি অ্যামপুটেশন) সাথে জড়িত জটিলতাসমূহ
অ্যাবোভ-নি অ্যামপুটেশন কোনো ছোটখাটো সার্জারি নয়, এটি একটি জটিল এবং বড় ধরনের সার্জারি। এই সার্জারির মাধ্যমে রোগীর হাঁটুর ওপরের অংশ বাদ দেওয়া হয়। সুতরাং, অন্যান্য সার্জিক্যাল চিকিৎসার যেমন কিছু ঝুঁকি থাকে, এই সার্জারির ঝুঁকি অন্যান্য সার্জারির তুলনায় বেশি। নিচে কিছু জটিলতার তালিকা দেওয়া হলো:
- সার্জারির পরে বা চলাকালীন অতিরিক্ত রক্তপাত।
- ত্বকের নিচে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে, যাকে হেমাটোমা বলা হয়।
- সার্জারির স্থানে সংক্রমণের ঝুঁকি।
- গুরুতর ক্ষত বা ইনসিশনের কারণে সুস্থ হতে দেরি হওয়া।
- ব্যথা এবং ফোলাভাব।
- রক্ত জমাট বাঁধার সৃষ্টি হতে পারে যা শরীরে রক্তপ্রবাহে বাধা দিতে পারে।
- রক্ত জমাট বেঁধে সেগুলো ভেঙে বা আলগা হয়ে মস্তিষ্কে বা ফুসফুসে চলে যেতে পারে।
- ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
- মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধলে স্ট্রোক হতে পারে। এই অবস্থাগুলো জীবনঘাতী।
ভারতে অ্যাবোভ-নি অ্যামপুটেশনের খরচ
পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে ভারতে চিকিৎসা সেবা জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। পশ্চিমের দেশগুলোর তুলনায় ভারতে অ্যাবোভ-নি অ্যামপুটেশনের খরচ কম এবং বেশ সাশ্রয়ী। ভারতের সেরা অর্থোপেডিক হাসপাতালগুলো চিকিৎসার সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত খরচে উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং পরিসেবা প্রদান করে থাকে। আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য ভারতীয় হাসপাতালগুলোর আতিথেয়তা অত্যন্ত উচ্চমানের। এমনকি আন্তর্জাতিক রোগীরাও তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য এবং এখানকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অন্বেষণ করতে ভারতের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
উপসংহার
অ্যাবোভ-নি অ্যামপুটেশন হলো একটি সার্জিক্যাল পদ্ধতি যা হাঁটুর জয়েন্টের ওপর থেকে পা কেটে ফেলার জন্য করা হয়। এই সার্জারি প্রায়ই গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে করা হয়, যেমন পেরিফেরাল ভাসকুলার ডিজিজ, যা রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত জীবনঘাতী টিস্যুর ক্ষতি বা টিস্যুর মৃত্যু ঘটাতে পারে।
অ্যাবোভ-নি অ্যামপুটেশন কোনো ছোটখাটো সার্জারি নয়, এটি একটি জটিল এবং বড় ধরনের সার্জারি। এই সার্জারির মাধ্যমে রোগীর হাঁটুর ওপরের অংশ বাদ দেওয়া হয়। এটি কেবল শারীরিক দিক থেকেই চ্যালেঞ্জিং নয়, বরং আবেগগতভাবেও অত্যন্ত কষ্টদায়ক।














